সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান

মব সন্ত্রাস : আইনের শাসনের জন্য ভয়ংকর অশনিসংকেত

  • আপলোড সময় : ০৯-০১-২০২৬ ১০:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০১-২০২৬ ১০:১৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
মব সন্ত্রাস : আইনের শাসনের জন্য ভয়ংকর অশনিসংকেত
দেশে ক্রমবর্ধমান মব সন্ত্রাস বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও গণতন্ত্রের জন্য এক গভীর উদ্বেগজনক বাস্তবতা। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে মব সহিংসতায় ২৮০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে - যা এক ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। সংখ্যাটি শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি আইনের শাসন ভেঙে পড়ার এক নির্মম দলিল। মব সন্ত্রাসের মূল বৈশিষ্ট্য হলো- কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে একদল মানুষ ‘বিচারক, জুরি ও কার্যকরকারী’ হয়ে ওঠা। এতে আইন, আদালত ও বিচারপ্রক্রিয়া অকার্যকর হয়ে পড়ে। অপরাধী হলেও কাউকে পিটিয়ে হত্যা করার অধিকার কারও নেই - এটি রাষ্ট্রীয় আইন ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহের বশে নিরীহ মানুষ, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী, সংস্কৃতিকর্মী এমনকি সাংবাদিকরাও মবের শিকার হচ্ছেন। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- অনেক ঘটনায় পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও কার্যকর হস্তক্ষেপ দেখা যায় না। কোথাও কোথাও মবের ভয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে - যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও মনোবলের প্রশ্ন তোলে। সরকারিভাবে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন আশানুরূপ নয়। ফলে অপরাধীরা বারবার সাহস পাচ্ছে এবং একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত তৈরি হচ্ছে। মব সন্ত্রাস শুধু প্রাণহানিই ঘটাচ্ছে না; এটি সমাজে ভয়, অনিশ্চয়তা ও নৈরাজ্যের সংস্কৃতি তৈরি করছে। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জরিপে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষের উৎকণ্ঠিত থাকার তথ্য এই বাস্তবতাকেই তুলে ধরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্য মব তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখছে - যেখানে দায়বদ্ধতার অভাব স্পষ্ট। আরও উদ্বেগজনক হলো, কখনো ‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা’, কখনো ‘তৌহিদি জনতা’র নামে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিল্পী, বাউল, মাজার, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনা। এটি কেবল আইনবহির্ভূতই নয়, বরং বাংলাদেশের বহুত্ববাদী ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত। বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের ভাষায়, এটি এক বিপজ্জনক সংস্কৃতি - যা ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়গুলোর স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। আমরা মনে করি, মব সন্ত্রাস রোধে শুধু মৌখিক হুঁশিয়ারি যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত বিচার, অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার। রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে- নিজেদের অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতায় শূন্য সহনশীলতা দেখাতে হবে। একই সঙ্গে গুজব ও উসকানির বিরুদ্ধে সামাজিক ও ডিজিটাল সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। আইন যদি দুর্বল হয়, তবে মব শক্তিশালী হয়। রাষ্ট্র যদি নির্লিপ্ত থাকে, তবে জনতা বিচারকের আসনে বসে। এই বিপজ্জনক প্রবণতা এখনই থামাতে না পারলে সমাজ আরও গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাবে। মব নয়; আইনই হোক শেষ কথা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স